সর্বশেষ হালনাগাদ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬
এনআইডি কার্ড হারিয়ে গেলে, স্মার্ট কার্ড হাতে না পেলে বা ব্যাংক, পাসপোর্ট কিংবা চাকরির আবেদনে কপি লাগলে নির্বাচন কমিশনের পোর্টাল থেকে অনলাইন কপি নামিয়ে নেওয়া যায়। এতে কোনো ফি লাগে না। ধাপগুলো নিচে দিলাম।
যা যা লাগবে
- এনআইডি নম্বর অথবা ভোটার নিবন্ধনের ফরম বা স্লিপ নম্বর।
- জন্মতারিখ।
- আপনার নামে নিবন্ধিত একটি মোবাইল নম্বর (ওটিপি আসবে)।
- স্মার্টফোন, যাতে ‘NID Wallet’ অ্যাপ ইনস্টল করা যাবে (ফেস ভেরিফিকেশনের জন্য)।
ধাপে ধাপে নিয়ম
- ব্রাউজারে services.nidw.gov.bd লিখে নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে যান। ঠিকানার বানান ভালো করে মিলিয়ে নিন, ভুয়া সাইট এড়াতে।
- ‘রেজিস্টার করুন’ (নিবন্ধন) অপশনে যান।
- এনআইডি নম্বর বা ফরম নম্বর এবং জন্মতারিখ লিখে ক্যাপচা পূরণ করুন।
- ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর যাচাই করুন। মোবাইলে আসা ওটিপি কোডটি বসান।
- স্ক্রিনে একটি QR কোড দেখাবে। প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে নামানো NID Wallet অ্যাপ দিয়ে সেই কোড স্ক্যান করে ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন। কোনো কোনো পদ্ধতিতে ফিঙ্গারপ্রিন্টও চলে।
- অ্যাকাউন্ট তৈরি হলে লগইন করুন। প্রোফাইলে ‘ডাউনলোড’ অপশন চাপুন। এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপি পিডিএফ হিসেবে নামবে।
- ফাইলটি প্রিন্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন। ল্যামিনেশন বা প্রিন্টের খরচ ছাড়া অনলাইন কপি ডাউনলোডে কোনো ফি নেই।
কে এভাবে নিতে পারেন
যাঁরা ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন কিন্তু কার্ড এখনো পাননি, যাঁদের কার্ড হারিয়ে গেছে এবং যাঁরা স্মার্ট কার্ডের জন্য অপেক্ষায় আছেন, তাঁরা এই পদ্ধতিতে অনলাইন কপি পেতে পারেন। জুগান্তরের ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদনেও এই একই ধাপের বিবরণ আছে।
সতর্কতা
- ওটিপি ও এনআইডি নম্বর কাউকে বলবেন না। নির্বাচন কমিশনের কেউ ওটিপি চায় না।
- ভুয়া সাইট বা ‘সার্ভার কপি’ বিক্রির সাইটে এনআইডি ও জন্মতারিখ দেবেন না। নিজের তথ্য শুধু সরকারি পোর্টালে দিন।
- অনলাইন কপি ও ‘সার্ভার কপি’ এক নয়। সার্ভার কপি তথ্যের রিপোর্ট, আর অনলাইন কপি কার্ডের ডিজিটাল প্রতিরূপ। যেখানে কার্ডের ছবিসহ কপি চাওয়া হয়, সেখানে অনলাইন কপি দিন।
- তথ্য ভুল থাকলে পরে সংশোধনের আবেদন করতে হয়, যা আলাদা প্রক্রিয়া।
নিজের নামে কয়টি সিম নিবন্ধিত তা জানতে পড়ুন এনআইডিতে কয়টি সিম নিবন্ধিত এবং ভোটার নম্বর ও সিরিয়াল বের করার নিয়ম দেখুন এখানে।
প্রশ্নোত্তর
এনআইডি অনলাইন কপি ডাউনলোডে কি টাকা লাগে?
না, সরকারি পোর্টাল থেকে ডাউনলোড বিনামূল্যে।
ফেস ভেরিফিকেশন কীভাবে হয়?
পোর্টালে দেখানো QR কোড NID Wallet অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করে।
কার্ড না পেলেও কি কপি পাব?
হ্যাঁ, এনআইডি নম্বর বা ফরম নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করলে।
দায়মুক্তি: ধাপগুলো সরকারি পোর্টালের নিয়ম ও প্রকাশিত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ। পোর্টালের বিন্যাস বদলাতে পারে, তাই সর্বশেষ নির্দেশনা নির্বাচন কমিশনের সাইটে দেখুন।

আমি একজন অডিটর এবং বিগত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, আর্থিক নিয়মাবলী ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত চর্চা ও লেখালেখি করছি। হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী এবং সরকারি চাকুরির সুবাদে প্রশাসনিক নিয়ামাবলী খুব গভীরভাবে বোঝার সুযোগ হয়েছে। আমার লক্ষ্য হলো এই জটিল বিষয়গুলোকে সাধারণের কাছে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা।
