বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি অতিরিক্ত গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ পুনর্গঠন করেছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জনাব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। এই প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে পূর্বের ২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল বলে গণ্য হবে।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কী?
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং পরিচালন বাজেটের আওতায় বড় অংকের কেনাকাটা, পণ্য বা সেবা ক্রয় এবং চুক্তির প্রস্তাবগুলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে দ্রুত অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ সরকার এই উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে থাকে। গত ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ বা ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই নতুন প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয় এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
কমিটির নতুন সদস্য তালিকা (কারা আছেন এই কমিটিতে?)
গেজেট অনুযায়ী গঠিত নতুন এই কমিটিতে আহ্বায়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে:
- আহ্বায়ক: জনাব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (মন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়)।
- সদস্য: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়)।
- সদস্য: জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ (মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)।
- সদস্য: জনাব ইকবাল হাসান মাহমুদ (মন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়)।
- সদস্য: ড. খলিলুর রহমান (মন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)।
- সদস্য: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (মন্ত্রী, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)।
- সদস্য: জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান (মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)।
- সদস্য: সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী।
কমিটিকে সহায়তাকারী কর্মকর্তাগণ
মন্ত্রিসভা কমিটিকে দাপ্তরিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের জন্য শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
- মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব/সচিব (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়)।
- অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সচিবগণ।
- পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সদস্য।
- প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ)।
(বি.দ্র: এই কমিটিতে ‘সচিব’ বলতে সিনিয়র সচিবও অন্তর্ভুক্ত হবেন)
কমিটির মূল কার্যপরিধি (Terms of Reference)
সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতে এই কমিটি মূলত বড় অংকের চুক্তির অনুমোদন দিয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- পূর্ত কাজ ও পণ্য ক্রয়: উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে এককভাবে ১০০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বের পূর্ত কাজ এবং সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয় চুক্তি বিবেচনা করা।
- পরিচালন বাজেট: পরিচালন বাজেটের ক্ষেত্রে ১০০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বের পূর্ত কাজ এবং ৫০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বের পণ্য/সরঞ্জামাদি ক্রয়ের চুক্তি বিবেচনা করা।
- পেশাগত সেবা: উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক ও পেশাগত সেবা সংক্রান্ত ৩০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে এবং পরিচালন বাজেটের ক্ষেত্রে ২০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বের চুক্তি অনুমোদন।
- ভৌত সেবা: উন্নয়ন প্রকল্পে ২৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে এবং গণখাতে কর্পোরেশন বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার ক্ষেত্রে ১৫ কোটি ও পরিচালন বাজেটের ক্ষেত্রে ১০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বের ভৌত সেবা চুক্তি বিবেচনা।
- সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুসৃত দরপত্র পদ্ধতির পরিবীক্ষণ ও পর্যালোচনা করা।
সাধারণ জিজ্ঞাস্য
১. বর্তমান ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’-এর আহ্বায়ক কে?
এই কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক হলেন অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জনাব আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
২. পূর্বের ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির কী হলো?
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন গেজেট অনুযায়ী, এতদসংক্রান্ত বিষয়ে ২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে জারিকৃত পূর্বের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে।
৩. এই কমিটির বৈঠক কখন অনুষ্ঠিত হবে?
গেজেটের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কমিটির বৈঠক প্রয়োজনানুসারে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।
তথ্যসূত্র: নিবন্ধটিতে ব্যবহৃত সকল তথ্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেট।

আমি একজন অডিটর। আমি একজন কন্টেন্ট রাইটার হিসেবে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, বিভিন্ন শিক্ষামুলক ও বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে ৫ বছর ধরে লেখালেখি করছি। সরকারি চাকুরীর সুবাদে বিভিন্ন বিধি বিধান নিয়ে সব সময় স্টাডি করে থাকি। সরকারি সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র প্রায়শই পড়া হয়। তাই নিজের প্রাকটিক্যাল জ্ঞান আপনাদের সাথে শেয়ার করি।