সরকারি কর্মচারী ও নাগরিকদের জন্য বিধি, অফিস আদেশ, পে-স্কেল, পেনশন ও চাকরিসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য

BD Service Rules

আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন, সহজভাবে

চাকরির বিধি, বেতন-ভাতা, পে-ফিক্সেশন ও সরকারি সেবার প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজুন।

এসএসসি শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য

[মঞ্চে উঠে একটু সময় নিয়ে, চারদিকে তাকিয়ে, তারপর শুরু করবেন]

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক মহোদয়, আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, আজকের এই অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি এবং আমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় সহপাঠী ও ছোট ভাইবোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম।

আজ আমাদের জীবনের এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণ। যে স্কুলের আঙ্গিনায় আমাদের শৈশব আর কৈশোরের সোনালী দিনগুলো কেটেছে, আজ সেখান থেকে বিদায় নেওয়ার দিন। মনটা বারবার সেই প্রথম দিনের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। যেদিন ছোট ছোট কাঁধে স্কুল ব্যাগ ঝুলিয়ে, ভয়ে ভয়ে এই গেট দিয়ে প্রথম ঢুকেছিলাম। সব কিছুই ছিল নতুন, সব কিছুই ছিল অচেনা। কিন্তু আজ? আজ এই স্কুলের প্রতিটি ইট-পাথর, এই ক্লাসরুমের প্রতিটি বেঞ্চ, এমনকি স্কুলের বারান্দার এই বাতাসটাও আমাদের বড় আপন।

মনে পড়ছে সেই সব দিনের কথা: যখন টিফিন পিরিয়ডে আমরা এক প্লেটে খাবার ভাগ করে খেতাম। ক্লাসে স্যার পড়া ধরলে একজন না পারলে আরেকজন ফিসফিস করে উত্তর বলে দিতাম। খেলার মাঠে সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়া আবার পরক্ষণেই গলা জড়িয়ে ধরে হাসাহাসি, সবই আজ স্মৃতির পাতায় জমা হয়ে যাচ্ছে। আমরা যখন ক্লাসে দুষ্টুমি করতাম, স্যাররা যখন আমাদের বকা দিতেন, তখন খুব রাগ হতো। কিন্তু আজ বুঝতে পারছি, সেই বকাগুলো ছিল আমাদের জীবন গড়ার একেকটি ইট।

শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, আজ আমরা আপনাদের সামনে মাথা নত করে ক্ষমা চাইছি। আমাদের অবুঝ বয়সে হয়তো আপনাদের মনে কষ্ট দিয়েছি, পড়া না পেরে আপনাদের হতাশ করেছি। বিশ্বাস করুন, আপনাদের দেওয়া শাসন ছিল আমাদের জন্য আশীর্বাদ আর আপনাদের সোহাগ ছিল আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আপনারা কেবল আমাদের বইয়ের পড়া শেখাননি, আপনারা আমাদের মানুষ হতে শিখিয়েছেন। আপনাদের এই ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারব না।

প্রিয় সহপাঠীরা, আজ থেকে আমাদের চলার পথ হয়তো আলাদা হয়ে যাবে। কেউ হবে ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ বা দেশের সেবক। কিন্তু আমরা যে একই স্কুলের ছায়াতলে বড় হয়েছি, এই বন্ধন কোনোদিন ছিঁড়বে না।

সামনে আমাদের জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা-এসএসসি। ভয় লাগছে, তবে সেই ভয়ের চেয়েও বড় হলো আপনাদের সবার দোয়া আর ভালোবাসা। আমরা কথা দিচ্ছি, এই স্কুলের সম্মান আমরা নষ্ট হতে দেব না। আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আমরা পরীক্ষার খাতায় আমাদের সেরাটা দিয়ে আসতে পারি।

পরিশেষে, ছোট ভাইবোনদের বলছি, এই স্কুল তোমাদের আমানত। একে তোমরা ভালোবেসো, সম্মান কোরো।

বিদায় বেলায় আর কোনো কথা আসছে না, শুধু চোখ ভিজে আসছে। বিদায় প্রিয় স্কুল, বিদায় প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ, বিদায় আমার শৈশবের খেলার সাথীরা। আমরা যেখানেই থাকি, এই স্কুলের নাম আমাদের হৃদয়ে চিরদিন খোদাই করা থাকবে।

ধন্যবাদ সবাইকে।

[চোখ মুছে, মাথা নত করে সালাম জানিয়ে মঞ্চ ত্যাগ করবেন]

সরকারি চাকরি ও নাগরিক সেবার জরুরি ক্যালকুলেটর ও গাইড

Leave a Comment

Share with