BD Service Rules

আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন, সহজভাবে

চাকরির বিধি, বেতন-ভাতা, পে-ফিক্সেশন ও সরকারি সেবার প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজুন।

অবসরোত্তর ছুটি ও উচ্চতর গ্রেড: ২০১৫ বেতনস্কেল স্পষ্টীকরণ পরিপত্র (২১.০৯.২০১৬) ও ২০২৬ সালের হালনাগাদ

সর্বশেষ হালনাগাদ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের ফাইলে এখনও প্রায়ই একটি পুরোনো পরিপত্রের নাম ঘুরে ফিরে আসে। সেটি হলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখের পরিপত্র, যার স্মারক নং ০৭.০০.০০০০.১৬১.০০.০০২.১৬ (অংশ-১)-২৩২। বিষয় ছিল জাতীয় বেতনস্কেল, ২০১৫ স্পষ্টীকরণ। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় একই মাসের ২৭ তারিখ এটি মাঠ পর্যায়ের হিসাবরক্ষণ অফিসগুলোতে পাঠিয়েছিল। তিনটি বিষয়ে ব্যাখ্যা থাকায় অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) আর উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অফিসগুলো দীর্ঘদিন এটিকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করেছে।

এখন ২০২৬ সালের নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হয়েছে। তাই প্রশ্নটা স্বাভাবিক: ২০১৬ সালের ওই ব্যাখ্যা কি এখনও কাজে লাগে? এই লেখায় আগে পরিপত্রটি কী বলেছিল তা পরিষ্কার করছি, তারপর দেখাচ্ছি নতুন গেজেটে কোন জায়গায় পরিবর্তন এসেছে।

পরিপত্রে কী বলা হয়েছিল

১. অবসরোত্তর ছুটিতে বর্ধিত বেতন

পরিপত্র অনুযায়ী অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারী ছুটিকালীন সময়ে শুধু একটি বর্ধিত বেতন (ইনক্রিমেন্ট) পাবেন। আর এই ইনক্রিমেন্টটি কেবল পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ছুটি চলাকালে মাসিক বেতনে ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়ে হাতে আসার কথা নয়, বরং পেনশনের হিসাবে একটি ধাপ বাড়িয়ে ধরা হয়।

২. সন্তোষজনক চাকরি ও স্বয়ংক্রিয় উচ্চতর গ্রেড

এখানে দুটি শব্দের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল।

  • সন্তোষজনক চাকরি: পদোন্নতির ক্ষেত্রে সন্তোষজনক চাকরি যেভাবে বিবেচনা করা হয়, উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রেও সেই একই বিধি-বিধান প্রযোজ্য হবে।
  • স্বয়ংক্রিয়: বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি (ডিপিসি) ছাড়াই উচ্চতর গ্রেড দেওয়া হবে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন নিয়ে অফিস আদেশ জারি করতে হবে।

৩. উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা

তৃতীয় অংশে চারটি শর্ত ছিল। নিচের ছকে সংক্ষেপে সাজিয়ে দিলাম।

অবস্থা ২০১৬ সালের পরিপত্র অনুযায়ী ফল
একই পদে থেকে দুই বা তার বেশি উচ্চতর স্কেল/সিলেকশন গ্রেড আগেই পেয়েছেন এই অনুচ্ছেদে আর উচ্চতর গ্রেড পাবেন না
একই পদে থেকে একটি মাত্র উচ্চতর স্কেল/সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন সেটি পাওয়ার তারিখ থেকে ৬ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ৭ম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড
একই পদে থেকে কোনো উচ্চতর স্কেল/সিলেকশন গ্রেড পাননি সন্তোষজনক চাকরির শর্তে ১০ বছর পূর্ণ হলে ১১তম বছরে উচ্চতর গ্রেড, এরপর আরও ৬ বছরে পদোন্নতি না পেলে ৭ম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড
জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫-এর ৭(১) ও ৭(২) অনুচ্ছেদের সুবিধা কোনোভাবেই ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখের আগে দেওয়া যাবে না

২০২৬ সালে কী বদলেছে

সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ গেজেটে উচ্চতর গ্রেডের প্রাপ্যতা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী মূল পরিবর্তনগুলো এমন:

  • কোনো স্থায়ী কর্মচারী একই পদে টানা আট বছর চাকরি পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে নবম বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদের মূল স্কেলের পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডে বেতন পাবেন।
  • এই উচ্চতর গ্রেড পদোন্নতি হিসেবে গণ্য হবে না।
  • ১ জুলাই ২০২৬-এর আগে যাঁদের আট বছর পূর্ণ হয়েছে কিন্তু ১০ বছর পূর্ণ হয়নি, তাঁরা ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে উচ্চতর গ্রেডের যোগ্য হবেন।
  • প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পরও পদোন্নতি ছাড়া আরও ছয় বছর চাকরি করলে সপ্তম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড মিলবে, এটিও পদোন্নতি নয়।
বিষয় ২০১৬ সালের ব্যাখ্যা (বেতনস্কেল ২০১৫) ২০২৬ সালের গেজেট (সংবাদ অনুযায়ী)
প্রথম উচ্চতর গ্রেড ১০ বছর পূর্ণ হলে ১১তম বছরে ৮ বছর পূর্ণ হলে ৯ম বছরে
পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড ৬ বছর পূর্ণ হলে ৭ম বছরে ৬ বছর পূর্ণ হলে ৭ম বছরে
পদোন্নতি হিসেবে গণ্য উল্লেখ নেই না

অর্থাৎ ২০২৬ সালের নিয়মে প্রথম উচ্চতর গ্রেডের অপেক্ষা দুই বছর কমেছে। তবে পদোন্নতির পর কী হবে, কোন গ্রেডে সীমা আছে কি না, এসব খুঁটিনাটি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না তা অবশ্যই গেজেটের মূল পাঠ ও অর্থ বিভাগের পরবর্তী নির্দেশনা থেকে মিলিয়ে নিন।

তাহলে ২০১৬ সালের পরিপত্র কি এখন অকেজো?

পুরোপুরি নয়। ১ জুলাই ২০২৬-এর আগের সময়ের ফাইল, পুরোনো উচ্চতর গ্রেডের বেতন নির্ধারণ কিংবা অডিট আপত্তির জবাবে এই পরিপত্র এখনও প্রাসঙ্গিক। কিন্তু ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন প্রাপ্যতা বিবেচনায় প্রথম ভরসা হবে ২০২৬ সালের গেজেট। অবসরোত্তর ছুটিতে ইনক্রিমেন্টের বিধানে নতুন কোনো পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমি নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পাইনি। তাই পিআরএলে থাকলে বা যাচ্ছেন এমন হলে আপনার অফিস ও হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে লিখিত নিশ্চয়তা নিন।

এখন কী করবেন

  1. আপনার চাকরি কত বছর পূর্ণ হয়েছে এবং একই পদে কতগুলো উচ্চতর গ্রেড/টাইমস্কেল পেয়েছেন, তার তালিকা করুন।
  2. সন্তোষজনক চাকরির প্রমাণ (এসিআর, শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোনো বাধা আছে কি না) প্রস্তুত রাখুন।
  3. অফিস আদেশ জারির জন্য নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু করুন। ২০১৬ সালের ব্যাখ্যায় এই অনুমোদন-ভিত্তিক পথটিই বলা হয়েছিল।
  4. বেতনের হিসাব মেলাতে আইবাস++-এ পে ফিক্সেশনের ফলাফল দেখে নিন। বকেয়া হিসাব করতে চাইলে আমাদের এরিয়ার বিল ক্যালকুলেটর কাজে লাগবে।

আরও পড়ুন: উচ্চতর গ্রেড কত বছর পর পাওয়া যায়, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়ম ও আবেদন পদ্ধতি, উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ এবং পে স্কেল ২০২৬ ক্যালকুলেটর।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

অবসরোত্তর ছুটিতে ইনক্রিমেন্ট কি মাসিক বেতনে যোগ হয়?

২০১৬ সালের পরিপত্র অনুযায়ী না। ছুটিকালীন একটি বর্ধিত বেতন শুধু পেনশন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ধরা হয়।

স্বয়ংক্রিয় উচ্চতর গ্রেডের জন্য কি ডিপিসি বসতে হয়?

না। পরিপত্র অনুযায়ী ডিপিসি ছাড়াই সচিব, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমোদন নিয়ে অফিস আদেশ জারি করতে হয়।

২০২৬ সালে প্রথম উচ্চতর গ্রেড কত বছরে মিলছে?

সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী গেজেটে আট বছর পূর্ণ হলে নবম বছরে স্বয়ংক্রিয় উচ্চতর গ্রেডের কথা বলা হয়েছে, সন্তোষজনক চাকরির শর্তে। প্রয়োগের আগে গেজেটের মূল ধারা দেখে নিন।

দায়মুক্তি: এটি তথ্যগত ব্যাখ্যা, সরকারি আদেশের বিকল্প নয়। সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট মূল পরিপত্র ও গেজেট যাচাই করুন।

Leave a Comment