BD Service Rules

আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন, সহজভাবে

চাকরির বিধি, বেতন-ভাতা, পে-ফিক্সেশন ও সরকারি সেবার প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজুন।

প্রাথমিক শিক্ষকদের অনিয়মিত বেতন নির্ধারণী: খুলনা ডিসিএ কার্যালয়ের পত্রে ছয় আপত্তি ও করণীয় (অক্টোবর ২০২৬)

সর্বশেষ হালনাগাদ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নতুন বেতন নির্ধারণের কাজ চলছে। এই সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে একটি পত্র হাতে হাতে ঘুরছে। এটি ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস (ডিসিএ) কার্যালয়, খুলনা বিভাগের পত্র, যেখানে ‘অনিয়মিত বেতন নির্ধারণী সংশোধন’ প্রসঙ্গে পাঁচটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। পত্রে স্বাক্ষরের তারিখ ১৬ অক্টোবর ২০২৬ এবং এটি খুলনা সদরের থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে সম্বোধন করে লেখা। অনুলিপি গেছে বিভাগীয় ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং পিটিআই সুপারের কাছে।

আগে জেনে নিন: এটি একটি আঞ্চলিক হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের চিঠি, দেশজুড়ে নতুন কোনো নীতি নয়। চিঠিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি আকারে ছড়িয়েছে। আমি এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারিনি এবং ছবির কিছু স্মারক নম্বর ও তারিখ অস্পষ্ট। তাই নিচের ব্যাখ্যা পত্রের পাঠ্য অংশের ভিত্তিতে, আপনার নিজের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের আগে মূল কপি দেখে নিন।

পত্রে কী বলা হয়েছে

পত্র অনুযায়ী ডিসিএ কার্যালয় আগে পাঠানো প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর স্কেলের বেতন নির্ধারণ যাচাই করে কিছু অসঙ্গতি পেয়েছে। চিঠিতে অর্থ বিভাগের চারটি স্মারকের উল্লেখ আছে। এর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ সংশোধন করে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী পাঠাতে এবং অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

ছয়টি বিষয় এক নজরে

ক্ষেত্র পত্রের অবস্থান
১. ২০০৮ সালের যোগদান ধরে ২০১৮ সালে প্রথম উচ্চতর গ্রেড মাঝখানে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ বেতনস্কেলে উন্নীতকরণ হয়েছিল, তাই এভাবে নেওয়া সঠিক নয়
২. ২০১৪-র উন্নীতকরণের আগের একটি টাইমস্কেলের ভিত্তিতে ৬ বছরে ২০২০ সালের ৯ মার্চ দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড সূত্রের স্মারক অনুযায়ী সঠিক নয়
৩. উন্নীতকরণের ভিত্তিতে ১০ বছর পূর্তিতে ২০২৪ সালে প্রথম উচ্চতর গ্রেড, অথচ আগে ৮ বছরে একটি টাইমস্কেল নেওয়া হয়েছিল (প্রধান শিক্ষক ১১ থেকে ১০ম এবং সহকারী শিক্ষক ১৩ থেকে ১২তম গ্রেডে) ২০২৪ সালের উচ্চতর গ্রেড আগের টাইমস্কেলের সাথে সমন্বয় হবে, আবার নতুন করে প্রথম উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার সুযোগ নেই
৪. ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০-এর আগে ডিপিএড/সিইনএড প্রশিক্ষণ নেওয়া সহকারী শিক্ষকদের বেতন পুনর্নির্ধারণ বিএসআর পার্ট-১-এর ধারা ৪২(১)(ii) অনুযায়ী নিম্নধাপ ও পিপি আকারে প্রদেয়। ১ জুলাই ২০১৫ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০-এর মধ্যে প্রশিক্ষণের জন্য উক্ত ধাপে বেতন নিয়ে থাকলে তা কর্তনযোগ্য
৫. ১ জুলাই ২০১৫-র পর অফিস সহকারী, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক, সাঁটলিপিকার, মুদ্রাক্ষরিক ও অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে ২টি বা ৩টি অগ্রিম ইনক্রিমেন্ট গৃহীত হয়ে থাকলে কর্তনযোগ্য
৬. উচ্চমান সহকারী বা প্রধান সহকারীর সিলেকশন গ্রেড প্রাপ্য নয়। নিয়ে থাকলে কর্তনযোগ্য

বিষয়গুলো সহজ করে বুঝি

উচ্চতর গ্রেডের গণনা কোথা থেকে শুরু?

পত্রের মূল যুক্তি হলো, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ বেতনস্কেলে উন্নীতকরণের পর গণনার ভিত্তি বদলে যায়। যিনি আগে টাইমস্কেল নিয়ে ফেলেছেন, তাঁর পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড আলাদাভাবে ‘প্রথম’ হিসেবে ধরা যাবে না, বরং আগেরটির সাথে সমন্বয় করতে হবে। পুরোনো নিয়মে একই পদে উচ্চতর স্কেল ও গ্রেডের ফাঁক কীভাবে গোনা হতো, তার ধারণার জন্য ২০১৫ বেতনস্কেল স্পষ্টীকরণ পরিপত্র লেখাটি দেখতে পারেন।

ডিপিএড বা সিইনএড প্রশিক্ষণের বেতন

পত্র অনুযায়ী ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারির আগে প্রশিক্ষণ নেওয়া সহকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বেতন পুনর্নির্ধারণ হবে নিম্নধাপ ও পিপি আকারে। এর বাইরে বেশি ধাপে বেতন নিলে সেই অংশ ফেরত দিতে হতে পারে। তাই এই ক্ষেত্রে আপনার ১ জুলাই ২০১৫ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত বেতন নির্ধারণের অফিস আদেশটি মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

পদভিত্তিক দুটি আপত্তি

অফিস সহকারী ও সংশ্লিষ্ট কম্পিউটার-মুদ্রাক্ষর পদে অগ্রিম ইনক্রিমেন্ট, এবং উচ্চমান বা প্রধান সহকারীর সিলেকশন গ্রেড, এ দুটি প্রাথমিক শিক্ষকদের চেয়ে অফিস কর্মীদের বেশি প্রভাবিত করে। এখানে অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ কর্তনের কথা বলা হয়েছে।

এখন কী করবেন

  1. নিজের ফাইল মিলিয়ে নিন। যোগদানপত্র, বেতনস্কেলে উন্নীতকরণের আদেশ, টাইমস্কেল বা উচ্চতর গ্রেডের অফিস আদেশ, প্রশিক্ষণ সনদ আর পুরোনো পে ফিক্সেশন শিট এক জায়গায় রাখুন।
  2. প্রতিটি ধাপের তারিখ লিখে রাখুন। কোন তারিখে কোন গ্রেড বা টাইমস্কেল কার্যকর হয়েছে, সেটি টাইমলাইন আকারে সাজান।
  3. আপনার ক্ষেত্র আছে কি না নিশ্চিত হন। উপরের ছয়টির কোনোটি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না, তা থানা বা উপজেলা শিক্ষা অফিস ও হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে লিখিতভাবে জানুন।
  4. কর্তনের হিসাব চান। কোনো অর্থ আদায়ের কথা এলে কত টাকা, কোন সময়ের জন্য এবং কোন আদেশের ভিত্তিতে, তার লিখিত হিসাব ও আদেশের কপি চেয়ে নিন।
  5. আপত্তি থাকলে লিখিত আবেদন করুন। আপনার তথ্য ভিন্ন হলে প্রমাণসহ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে লিখিত আবেদন দিন। বিষয়টি জটিল হলে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী বা সংগঠনের পরামর্শ নিতে পারেন।

২০২৬ সালের প্রেক্ষাপট

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ পে ফিক্সেশন আইবাস++-এ চলছে। এর আগের বেতন নির্ধারণে ভুল থাকলে নতুন ফিক্সেশনেও তার প্রভাব পড়তে পারে, তাই এই সংশোধনের তাগিদ। পাশাপাশি সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী ১১তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে নির্ধারণের পদ্ধতি আইবাস++-এ যুক্ত করতে অর্থ বিভাগ অক্টোবরের শুরুতে আদেশ দিয়েছে। বকেয়ার বিষয়ে কী নির্দেশনা এসেছে, সেটা মূল আদেশ থেকে পড়ে নিন। নতুন স্কেলে আপনার বকেয়া আন্দাজ করতে এরিয়ার বিল ক্যালকুলেটর এবং বেতন ধাপ দেখতে পে স্কেল ২০২৬ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন। উচ্চতর গ্রেডের সাম্প্রতিক নিয়ম জানতে পড়ুন উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার নিয়ম ২০২৬।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

এই পত্র কি সারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য?

না। এটি খুলনা বিভাগীয় ডিসিএ কার্যালয় থেকে খুলনা সদরের থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো পত্র। তবে এতে যে অর্থ বিভাগীয় নির্দেশনা উদ্ধৃত হয়েছে, তা অন্য এলাকার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ কি অবশ্যই ফেরত দিতে হবে?

পত্রে তা আদায়ের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রকৃত পরিমাণ ও পদ্ধতি আপনার নির্দিষ্ট ফাইল যাচাইয়ের পর নির্ধারিত হবে, তাই লিখিত হিসাব ও আদেশ চেয়ে নিন।

দায়মুক্তি: এটি পত্রের পাঠ্যের তথ্যগত ব্যাখ্যা, আইনি বা সরকারি পরামর্শ নয়। সিদ্ধান্তের আগে মূল পত্র, উদ্ধৃত অর্থ বিভাগীয় স্মারক এবং আপনার হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্দেশনা যাচাই করুন।

Leave a Comment