সর্বশেষ হালনাগাদ: ২২ অক্টোবর ২০২৬
নতুন জাতীয় বেতনস্কেল কার্যকর হয়েছে, মূল বেতনও ধাপে ধাপে বাড়ছে। তাহলে মূল বেতনের শতাংশ হিসেবে যেসব ভাতা পাওয়া যায়, সেগুলো কি বাড়া মূল বেতনের ওপর হিসাব হবে? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অর্থ বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের তারিখ ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ অক্টোবর ২০২৬। এ লেখায় প্রজ্ঞাপনের মূল কথা, উদাহরণ ও আপনার করণীয় সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিলাম।
প্রজ্ঞাপনের পরিচয়
| জারিকারী দপ্তর | অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় (প্রবিধি-৩ শাখা) |
| স্মারক নম্বর | ০৭.০০.০০০০.১৭৩.৫৫.০১০.১৩ (অংশ-১)-১১৮ |
| প্রজ্ঞাপনের তারিখ | ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ / ১৮ অক্টোবর ২০২৬ |
| গেজেট প্রকাশ | সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ (অতিরিক্ত সংখ্যা) |
| স্বাক্ষর | রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব |
প্রজ্ঞাপনে কী বলা হয়েছে
প্রজ্ঞাপনটি সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য। এতে বলা হয়েছে, যাঁরা চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর বাইরে মূল বেতনের শতকরা হারে প্রচলিত ভাতা পেয়ে থাকেন, তাঁদের সেই ভাতা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও পরিশোধ করতে হবে।
সহজ ভাষায় এর মানে
- মূল বেতন বাড়লেও এসব ভাতা বাড়বে না। নতুন স্কেলে ধাপে ধাপে বাড়া মূল বেতনের ওপর এই শতাংশ ভাতা এখন হিসাব হবে না।
- ভিত্তি স্থির। ভিত্তি হলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আপনি যে মূল বেতন আহরণ করতেন সেটি।
- সাময়িক ব্যবস্থা। ‘পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ কথাটি থেকে বোঝা যায়, এটি অন্তর্বর্তী নির্দেশনা। পরে ভিন্ন আদেশ আসতে পারে।
- হার বদলায়নি। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী ভাতার শতাংশ হার বাড়ানোর কথা বলা হয়নি, শুধু ভিত্তি মূল বেতন নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
একটি কাল্পনিক উদাহরণ
মনে করুন, আপনি একটি ভাতা মূল বেতনের ১০% হারে পান, যা নতুন আদেশের আওতাভুক্ত নয়। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আপনার মূল বেতন ছিল ১৬,০০০ টাকা (১০ম গ্রেডের শুরুর ধাপ)।
| বিষয় | অঙ্ক |
|---|---|
| ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন | ৳ ১৬,০০০ |
| নতুন স্কেলে প্রথম ধাপের (জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬) মূল বেতন | ৳ ২৪,৮০০ |
| প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভাতার ভিত্তি | ৳ ১৬,০০০ (নতুন ২৪,৮০০ নয়) |
| ১০% ভাতা | ৳ ১,৬০০ (২,৪৮০ নয়) |
১০% হার একটি কাল্পনিক ধরে নেওয়া, আপনার ভাতার প্রকৃত হার আপনার পে-স্লিপ বা প্রযোজ্য আদেশে দেখুন। ২৪,৮০০ টাকা আমাদের এরিয়ার বিল ক্যালকুলেটরের নিয়মে হিসাব করা।
কোন ভাতাগুলো এর আওতায় পড়বে?
প্রজ্ঞাপনে ভাতার নাম ধরে ধরে তালিকা নেই। বলা হয়েছে, চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬-এর বাইরে থাকা এবং মূল বেতনের শতাংশ ভিত্তিক প্রচলিত ভাতাগুলো। তাই কোন ভাতা এর আওতায় পড়ে, তা জানতে আপনার ভাতার মূল আদেশ ও সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্দেশনা দেখতে হবে। আমি এখানে নির্দিষ্ট কোনো ভাতার নাম অনুমান করে লিখছি না।
বাড়ি ভাড়া ও নতুন ভাতার সাথে সম্পর্ক
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ গেজেটে আগেই বলা আছে, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রাপ্য বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে এবং নতুন নির্ধারিত ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে। নতুন প্রজ্ঞাপন সেই ধারার সাথে সংগতি রেখে অন্যান্য শতাংশভিত্তিক ভাতার জন্যও একই ভিত্তি ঠিক করে দিয়েছে বলে মনে হয়।
আপনার করণীয়
- পে-স্লিপ দেখুন। কোন কোন ভাতা মূল বেতনের শতাংশে আসছে এবং কোন মূল বেতনের ভিত্তিতে, তা মিলিয়ে নিন।
- ৩০ জুনের মূল বেতন সংরক্ষণ করুন। জুন ২০২৬-এর বেতন বিল বা পে-স্লিপের কপি রাখুন, কারণ ভাতার ভিত্তি এই অঙ্কই।
- ডিডিও ও হিসাবরক্ষণ অফিসের সাথে কথা বলুন। বিল তৈরির সময় সফটওয়্যার ভাতা কোন ভিত্তিতে ধরছে, নিশ্চিত হয়ে নিন।
- বকেয়ার সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না। এরিয়ার বিলে শুধু মূল বেতনের বকেয়া ধরা হয়, ভাতার বকেয়া এতে আসে না।
পে ফিক্সেশন ও বকেয়া নিয়ে আরও পড়ুন: ১ জুলাইয়ের পরে পদোন্নতিতে পে ফিক্সেশন, বেতন নির্ধারণ ২০২৬: iBAS++ গাইড এবং পে স্কেল ২০২৬ ক্যালকুলেটর।
প্রজ্ঞাপন থেকে যা জানা যায় না
- কোন কোন ভাতা এর আওতায় পড়ছে, তার নির্দিষ্ট তালিকা।
- পরবর্তী আদেশ কবে আসবে।
- এই সময়ে কম পাওয়া ভাতার পার্থক্য পরে বকেয়া হিসেবে মিলবে কি না।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
নতুন মূল বেতন পেলে কি শতাংশ ভাতা বাড়বে?
এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বাড়বে না। চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ ২০২৬-এর বাইরের শতাংশভিত্তিক ভাতা পরবর্তী আদেশ পর্যন্ত ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতনের ভিত্তিতে চলবে।
এটি কাদের জন্য প্রযোজ্য?
সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য।
এই নিয়ম কতদিন চলবে?
পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত। নির্দিষ্ট সময়সীমা প্রজ্ঞাপনে নেই।
দায়মুক্তি: এটি প্রজ্ঞাপনের তথ্যগত ব্যাখ্যা। আপনার নির্দিষ্ট ভাতার ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের মূল আদেশ ও হিসাবরক্ষণ অফিসের নির্দেশনা যাচাই করুন।

আমি একজন অডিটর এবং বিগত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, আর্থিক নিয়মাবলী ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত চর্চা ও লেখালেখি করছি। হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী এবং সরকারি চাকুরির সুবাদে প্রশাসনিক নিয়ামাবলী খুব গভীরভাবে বোঝার সুযোগ হয়েছে। আমার লক্ষ্য হলো এই জটিল বিষয়গুলোকে সাধারণের কাছে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা।
