সর্বশেষ হালনাগাদ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সরকারি কর্মচারীদের পেনশন আছে, কিন্তু এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরের অর্থ আসে দুটি আলাদা সংস্থা থেকে: শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট।
কীভাবে জমা হয়
আইন অনুযায়ী এমপিওর সরকারি অংশ থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্ক কেটে এই দুই তহবিলে জমা হয়। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ড পায় ৬% এবং কল্যাণ ট্রাস্ট পায় ৪%। অন্য একটি তথ্যে বোর্ডের চাঁদা ৪% বলা আছে। হার নিয়ে সন্দেহ থাকলে নিজের পে-স্লিপের কর্তন দেখে নিন।
কী পাবেন
- অবসর সুবিধা বোর্ড: অবসরে গেলে জমা ও তার সঙ্গে নির্ধারিত সুবিধা মিলিয়ে এককালীন অর্থ। চাকরির সময় যত বেশি, প্রাপ্তি তত বেশি।
- কল্যাণ ট্রাস্ট: অবসর, মৃত্যু বা অন্যান্য ক্ষেত্রে কল্যাণসুবিধার অর্থ।
একটি সরকারি শিক্ষক বাতায়ন ব্লগে উদাহরণ হিসেবে প্রায় ১০ লাখ ১৪ হাজার টাকার অবসরকালীন সুবিধার কথা আছে, তবে এটি নির্দিষ্ট বেতন ও চাকরিকালের উদাহরণ, সবার জন্য নয়।
২০২৬ সালের পরিস্থিতি
- বছরের পর বছর আবেদন জমে থাকায় ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে ৮৭,৬০০ আবেদন অনিষ্পন্ন বলা হয়েছিল।
- প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি বছরের আগস্টের দিকে সরকার প্রায় ২,১০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে। প্রথম ধাপে বোর্ডের ৭০,১১৯ জন ও ট্রাস্টের ৫৩,৪৭৭ জন প্রাপ্য সুবিধার একাংশ পেয়েছেন বা পাচ্ছেন।
এই সংখ্যাগুলো সংবাদ প্রতিবেদন থেকে নেওয়া। বাকি অংশ কবে মিলবে, তা আমি নিশ্চিত করতে পারিনি।
আবেদনের আগে
- অবসরের তারিখ, এমপিও ইনডেক্স, নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্রের কপি এবং শেষ বেতনের শিট প্রস্তুত রাখুন।
- প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে কী কী কাগজ লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট বোর্ড বা ট্রাস্টের ওয়েবসাইট ও জেলা শিক্ষা অফিস থেকে নিশ্চিত হোন। ট্রাস্টের সাইট ngte-welfaretrust.gov.bd।
চাকরির কাগজপত্রের তালিকা দেখতে পারেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড ও বিএড স্কেলের কাগজপত্র লেখায়।
প্রশ্নোত্তর
এমপিও শিক্ষকদের অবসরের টাকা কে দেয়?
অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট, দুটি আলাদা সংস্থা।
বেতন থেকে কত কাটা হয়?
একটি প্রতিবেদনে বোর্ড ৬% ও ট্রাস্ট ৪% বলা আছে। পে-স্লিপে নিজের কর্তন দেখুন।
দায়মুক্তি: এটি সংবাদ প্রতিবেদন ও প্রচারিত তথ্যের সারসংক্ষেপ। হার ও আবেদনের নিয়ম বোর্ড ও ট্রাস্টের নির্দেশনা থেকে যাচাই করুন।

আমি একজন অডিটর এবং বিগত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সরকারি বিধিবিধান, আর্থিক নিয়মাবলী ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো নিয়ে নিয়মিত চর্চা ও লেখালেখি করছি। হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী এবং সরকারি চাকুরির সুবাদে প্রশাসনিক নিয়ামাবলী খুব গভীরভাবে বোঝার সুযোগ হয়েছে। আমার লক্ষ্য হলো এই জটিল বিষয়গুলোকে সাধারণের কাছে সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করা।
