সরকারি কর্মচারী ও নাগরিকদের জন্য বিধি, অফিস আদেশ, পে-স্কেল, পেনশন ও চাকরিসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য

BD Service Rules

আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন, সহজভাবে

চাকরির বিধি, বেতন-ভাতা, পে-ফিক্সেশন ও সরকারি সেবার প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজুন।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন ২০২৬: আবেদন করার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বিদেশে যাওয়ার খরচ মেটানো বা বিদেশ থেকে ফিরে দেশে ব্যবসা শুরু করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন প্রদান করে। এই লোন পেতে আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি, ভিসার কপি এবং একজন যোগ্য জামিনদার (Guarantor) ও তার আয়ের প্রমাণ প্রয়োজন। সঠিক কাগজপত্র ও আবেদন ফর্ম জমা দিলে যাচাই-বাছাই শেষে মাত্র ৫ থেকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে ১ লক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়া সম্ভব।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন কী এবং এর সুবিধাসমূহ প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য এটি একটি বিশেষ সরকারি উদ্যোগ। এই লোনের প্রধান সুবিধাগুলো হলো:

  • বিদেশে গমনে সহায়তা: যারা চাকরি বা কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে যেতে চান, কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ নেই, তারা এই লোন নিতে পারেন।
  • আর্থিক সুরক্ষা: প্রবাসে থাকাকালীন কোনো বড় আর্থিক সমস্যায় পড়লে এই ব্যাংক সাহায্য করে থাকে।
  • দেশে কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন: প্রবাসীরা দেশে ফিরে কোনো ব্যবসা বা প্রকল্প শুরু করে নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে চাইলে এই লোন দেওয়া হয়।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের প্রকারভেদ

২০২৬ সালের আপডেট নিয়ম অনুযায়ী, প্রবাসীদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সাধারণত তিন ধরনের লোন দেওয়া হয়ে থাকে:

  1. অভিভাষণ ঋণ (Migration Loan): বিদেশে যাওয়ার খরচ মেটানোর জন্য এই লোন দেওয়া হয়। এর পরিমাণ ১ লক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
  2. পুনর্বাসন ঋণ (Rehabilitation Loan): বিদেশ থেকে দেশে ফিরে নতুন করে জীবন শুরু বা ব্যবসা করার জন্য এই ঋণ দেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়া সম্ভব।
  3. বঙ্গবন্ধু অভিবাসী বৃহৎ পরিবার ঋণ: প্রবাসীদের পরিবারের বড় কোনো আর্থিক উদ্যোগের জন্য এই ঋণ প্রদান করা হয়, যার পরিমাণ সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন নিতে কি কি কাগজ লাগে?

লোন অনুমোদনের জন্য সঠিক কাগজপত্র জমা দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লোন আবেদনের ক্ষেত্রে নিচের ডকুমেন্টগুলো সংগ্রহ করতে হবে:

আবেদনকারীর (ঋণগ্রহীতা) কাগজপত্র:

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি।
  • পাসপোর্ট সাইজের ৩ কপি রঙিন ছবি।
  • ভিসার ফটোকপি (বিদেশে যাওয়ার প্রমাণস্বরূপ)।
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ৩টি স্বাক্ষরিত চেকের পাতা।
  • পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া নাগরিক সনদপত্র।

জামিনদারের (Guarantor) কাগজপত্র:

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি।
  • পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি রঙিন ছবি।
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ৩টি স্বাক্ষরিত চেকের পাতা।
  • পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া নাগরিক সনদপত্র।

জামিনদার হওয়ার যোগ্যতা: অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে জামিনদার কে হতে পারবেন? লোন নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পর কিস্তি পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে একজন যোগ্য জামিনদার প্রয়োজন। জামিনদারকে অবশ্যই ভালো আয়ের উৎস থাকতে হবে (যেমন: সরকারি চাকরিজীবী বা সফল ব্যবসায়ী, যার ভালো ইনকাম রিটার্ন রয়েছে)।

ধাপে ধাপে লোন আবেদন করার নিয়ম

খুব সহজেই আপনি প্রবাসী কল্যাণ লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  • ধাপ ১: প্রথমে উপরে উল্লেখিত আপনার ও জামিনদারের সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করুন।
  • ধাপ ২: প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে অথবা সরাসরি আপনার নিকটস্থ শাখা থেকে লোনের আবেদন ফর্মটি সংগ্রহ করুন।
  • ধাপ ৩: ফর্মটি নির্ভুলভাবে পূরণ করে সমস্ত ডকুমেন্টের সাথে সংযুক্ত (Attach) করুন।
  • ধাপ ৪: আপনার নিকটস্থ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখায় গিয়ে কর্মকর্তাদের কাছে ফাইলটি জমা দিন।
  • ধাপ ৫: ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনার কাগজপত্র ও জামিনদারের আয়ের উৎস যাচাই করবে। সব তথ্য সঠিক থাকলে ৫ থেকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে আপনার লোনটি অনুমোদন হয়ে যাবে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন পেতে কত দিন সময় লাগে? সব কাগজপত্র সঠিক থাকলে এবং যাচাই-বাছাইয়ে কোনো সমস্যা না হলে আবেদন করার ৫ থেকে ৭ কর্মদিবসের মধ্যেই লোন অনুমোদন হয়ে যায়।

লোনের কিস্তি কে পরিশোধ করবে? যেহেতু ঋণগ্রহীতা লোন নিয়ে বিদেশ চলে যান, তাই কিস্তি পরিশোধের দায়িত্ব মূলত তার পাঠানো রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বা তার অনুপস্থিতিতে জামিনদারের ওপর বর্তায়।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের ফর্ম কোথায় পাবো? আপনি সরাসরি ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম ডাউনলোড করতে পারেন অথবা আপনার নিকটস্থ শাখা থেকেও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারেন।

Leave a Comment

Share with