BD Service Rules

আপনার প্রশ্নের উত্তর খুঁজুন, সহজভাবে

চাকরির বিধি, বেতন-ভাতা, পে-ফিক্সেশন ও সরকারি সেবার প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজুন।

BACS কী? বাজেট ও হিসাব শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির ৯ সেগমেন্ট ও ৩৭ ডিজিটের কোড সহজ ভাষায় (২০২৬ গাইড)

সর্বশেষ হালনাগাদ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বিল পাস করতে গিয়ে কখনো কি অর্থনৈতিক কোড খুঁজে না পেয়ে আটকে গেছেন, কিংবা বাজেট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সিস্টেম ‘insufficient’ দেখিয়েছে? এর পেছনের কাঠামোটির নাম বাজেট ও হিসাব শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি, ইংরেজিতে Budget and Accounting Classification System বা সংক্ষেপে BACS। সরকারের প্রতিটি আয় ও ব্যয়কে কোন খাতে, কোন দপ্তরের, কোন তহবিল থেকে আর কোন উদ্দেশ্যে ধরা হবে, তা এই কোডের মাধ্যমেই ঠিক হয়। অর্থ বিভাগের পাবলিক এক্সপেন্ডিচার ম্যানেজমেন্ট স্ট্রেংদেনিং প্রোগ্রাম (পিইএমএস) এর যে ম্যানুয়াল প্রকাশ করেছে, তার ভিত্তিতে এ লেখায় BACS-এর মূল ধারণাটি সহজ করে লিখলাম।

BACS আসলে কী?

BACS হলো সরকারি আর্থিক লেনদেন পরিকল্পনা, লিপিবদ্ধ, প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণের একটি যুক্তিসংগত কাঠামো। ম্যানুয়ালের ভাষ্যে এটি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার (পিএফএম) একটি কেন্দ্রীয় উপাদান। কোড ঠিক থাকলে বাজেট করা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা ও অডিট করা সহজ হয়। কোড এলোমেলো হলে একই খরচ একেক জায়গায় একেক নামে ধরা পড়ে।

পুরোনো ১৩ ডিজিটের পদ্ধতি কেন বদলাতে হলো?

ম্যানুয়াল অনুযায়ী বাংলাদেশ এই কাঠামো উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিল ১৯৩৮ সালে, ভারত শাসন আইন ১৯৩৫-এর পর। ১৯৮৩, ১৯৮৮ ও ১৯৮৯ সালে একাধিকবার পর্যালোচনার পর ১৯৯৮ সালে ১৩ ডিজিটের কোড চালু হয়। সময়ের সাথে এর সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

  • ১৩ ডিজিট চারটি স্তরে ভাগ ছিল: আইনগত কোড (১ ডিজিট), প্রতিষ্ঠান (৪), অপারেশনাল ইউনিট (৪) ও অর্থনৈতিক কোড (৪)।
  • স্তরগুলো একে অপরের থেকে আলাদা ছিল না। যেমন আইনগত কোডের মধ্যে অর্থনৈতিক তথ্য মিশে ছিল।
  • অপারেশনাল স্তরে অপারেটিং ইউনিট, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিদেশি সরকার ও প্রকল্প, পাঁচ ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য একসাথে জমা ছিল।
  • অর্থনৈতিক কোড মাত্র দুই স্তর পর্যন্ত যেত, তাই বিশ্লেষণ সীমিত ছিল। ১,৫৯০টি অর্থনৈতিক কোডের মধ্যে ৭৪৫টি, অর্থাৎ প্রায় ৪৭%, ম্যানুয়ালের মতে অনুপযুক্ত ছিল।
  • এলাকা, অর্থায়নের উৎস ও কার্যক্রম অনুযায়ী ব্যয়ের প্রতিবেদন করা যেত না। IPSAS, GFSM ২০১৪ ও COFOG-এর মতো আন্তর্জাতিক মানও ধরা যেত না।

নতুন BACS: ৯ সেগমেন্ট, তিন ভাগ

নতুন কাঠামোয় নয়টি সেগমেন্ট আছে এবং সেগুলো তিন ভাগে সাজানো। প্রথম ভাগ কোর পার্ট, যেখানে ব্যবহারকারীকে iBAS++-এ প্রতিটি লেনদেনের জন্য সব তথ্য দিতে হয়। দ্বিতীয় ভাগ অ্যাডিশনাল পার্ট, যেখানে প্রয়োজনমতো নির্বাচিত তথ্য দিতে হয়। তৃতীয় ভাগ রিপোর্টিং পার্ট, যা ব্যবহারকারী দেন না, সিস্টেম আগে থেকে নির্ধারিত তথ্যের ভিত্তিতে নিজেই বসিয়ে নেয়।

ভাগ সেগমেন্ট ডিজিট কী চিহ্নিত করে
কোর ১. Organisation (সাংগঠনিক) ১৩ কোন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর বা প্রতিষ্ঠান বাজেট বা লেনদেনের দায়িত্বে
কোর ২. Operation (কার্যক্রম) ৯ লেনদেনটি উন্নয়ন না পরিচালন কাজের এবং কোন কার্যক্রম, স্কিম বা প্রকল্পের
কোর ৩. Fund (তহবিল) ৮ কোন তহবিলে লেনদেন, এবং অর্থ সরকার, বিদেশি অনুদান না ঋণ কোথা থেকে এসেছে
কোর ৪. Economic (অর্থনৈতিক) ৭ লেনদেনের অর্থনৈতিক প্রকৃতি, যেমন কর বা কর-বহির্ভূত আয়, বেতন ইত্যাদি
অ্যাডিশনাল ৫. Mode of Financing ১ দাতা-অর্থায়িত প্রকল্পে রিইম্বার্সেবল না সরাসরি প্রকল্প সহায়তা
অ্যাডিশনাল ৬. Location (অবস্থান) ৯ বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কোথায় লেনদেন আরোপিত হবে
রিপোর্টিং ৭. Authorisation ১ ব্যয় সংবিধান দ্বারা আরোপিত (চার্জড) না সংসদে অনুমোদিত (ভোটেড)
রিপোর্টিং ৮. COFOG ৪ জাতিসংঘের সরকারি কার্যক্রম শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী ব্যয়ের উদ্দেশ্য, যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য
রিপোর্টিং ৯. Budget Sector ৪ একই ধরনের লক্ষ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেটগত উদ্দেশ্য, সেক্টর অনুযায়ী

কোর পার্টের চার সেগমেন্টে মোট ৩৭ ডিজিট (১৩ + ৯ + ৮ + ৭)। অ্যাডিশনাল পার্টে ১০ এবং রিপোর্টিং পার্টে ৯ ডিজিট, সব মিলিয়ে ৫৬ ডিজিটের পূর্ণ কাঠামো। এই যোগফলটি ম্যানুয়ালের সংখ্যাগুলো একত্র করে আমার হিসাব। আশঙ্কার কিছু নেই, কারণ ম্যানুয়াল স্পষ্ট বলেছে, ব্যবহারকারীদের ৩৭ ডিজিটের কোড মুখস্থ বা হাতে লিখতে হবে না। iBAS++ ডিফল্ট মান, ড্রপডাউন তালিকা, আগের পোস্টিংয়ের স্মৃতি ও কিছু সেগমেন্টের স্বয়ংক্রিয় নির্ণয়ের মাধ্যমে কাজটি সহজ করে দেয়।

নতুন পদ্ধতি থেকে কী লাভ?

  • আর্থিক লেনদেন আরও নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করা যায়।
  • বাজেট প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও সম্পদের পূর্বাভাস আরও পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিয়ে হয়।
  • বিদেশি সহায়তার হিসাব সুবিন্যস্ত হয়।
  • অডিট ও প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা বাড়ে।
  • অঞ্চলভিত্তিক ব্যয়ের তুলনা সম্ভব হয়।
  • আন্তর্জাতিক মান (GFS ও IPSAS) অনুযায়ী বাহ্যিক প্রতিবেদন শক্তিশালী হয়।
  • ভবিষ্যতে সরকার চাইলে একুয়াল হিসাব ব্যবস্থায় যাওয়ার পথ সুগম হয়।

কবে থেকে চালু?

ম্যানুয়াল অনুযায়ী সংবিধান অনুসারে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের সাথে পরামর্শ করে নতুন BACS অনুমোদন করেছেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পরীক্ষামূলক ব্যবহার ও প্রশিক্ষণ হয় এবং নতুন BACS পুরোপুরি কার্যকর হয় ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে। ম্যানুয়ালে আরও বলা আছে, কোড ব্যবহারে ভুল বা সমস্যা ধরা পড়লে সম্ভব হলে প্রতিটি বাজেট চক্রের শুরুতে পরিবর্তন আনা হবে, যাতে বাজেট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন একই কাঠামোয় চলে।

ডিডিও ও হিসাবরক্ষকের কাজে BACS কীভাবে এসে পড়ে

  • বিল তৈরি: iBAS++-এ বিল পোস্ট করার সময় অর্থনৈতিক কোড ও প্রাতিষ্ঠানিক কোড মিলিয়ে বাজেট বরাদ্দের বিপরীতে খরচ ধরা হয়। বরাদ্দ না থাকলে বা বিতরণ না হলে কোড দেখা যায় না।
  • সম্ভাব্য সমস্যা: অর্থ বিভাগের এসপিএফএমএস সহায়তা পাতার তথ্য অনুযায়ী নতুন শ্রেণিবিন্যাস চালুর পর অ্যাকাউন্ট লজিকের সাথে ডিডিও লিংকের সম্পর্ক নেই। সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কোডে বাজেট বরাদ্দ ও বিতরণ থাকলে ডিডিও এডিট করে কোড পাওয়া যাবে।
  • বেতন ও অন্যান্য ব্যয়: বেতন নির্ধারণ বা বকেয়ার বিল তৈরির সময় সঠিক কোডে বরাদ্দ আছে কি না, আগেই দেখে নেওয়া ভালো।

সরকারি বেতন নির্ধারণের সাম্প্রতিক নিয়ম নিয়ে পড়ুন বেতন নির্ধারণ ২০২৬: iBAS++-এ সেন্ড ব্যাক, PRL, নবনিয়োগ ও প্রেষণ এবং পে-ফিক্সেশন সংশোধন: Running Fixation গাইড। নতুন স্কেলের বকেয়া হিসাব দেখতে ব্যবহার করুন এরিয়ার বিল ক্যালকুলেটর।

আপডেট ও অফিসিয়াল ডকুমেন্ট কোথায় পাবেন

অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতির অংশে ‘Budget and Accounting Classification System (New)’, ‘Budget & Accounting Classification Manual’ এবং ‘BACS All Segment’ শিরোনামে ডকুমেন্ট ও কোড তালিকা রয়েছে। হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সাইটেও বাজেট ও হিসাবরক্ষণ শ্রেণিবিন্যাস সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাওয়া যায়। কোড নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সর্বশেষ বাজেট পরিপত্রের তালিকা দেখে নেবেন, কারণ বাজেট চক্রের শুরুতে কোডে পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

BACS-এর পূর্ণরূপ কী?

Budget and Accounting Classification System, বাংলায় বাজেট ও হিসাব শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি।

নতুন BACS-এ কয়টি সেগমেন্ট?

নয়টি। কোর পার্টে চারটি (সাংগঠনিক, কার্যক্রম, তহবিল, অর্থনৈতিক), অ্যাডিশনাল পার্টে দুটি (অর্থায়ন পদ্ধতি, অবস্থান) এবং রিপোর্টিং পার্টে তিনটি (অথরাইজেশন, COFOG, বাজেট সেক্টর)।

৩৭ ডিজিটের কোড কি হাতে লিখতে হয়?

না। ম্যানুয়াল অনুযায়ী iBAS++ ডিফল্ট, ড্রপডাউন ও আগের পোস্টিংয়ের স্মৃতির মাধ্যমে কোড বসানো সহজ করে, তাই পুরো স্ট্রিং মনে রাখতে হয় না।

দায়মুক্তি: এটি PEMS-প্রকাশিত BACS ম্যানুয়ালের তথ্যভিত্তিক সারসংক্ষেপ, অফিশিয়াল কোড তালিকার বিকল্প নয়। আর্থিক লেনদেনের আগে অর্থ বিভাগ ও হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করুন।

Leave a Comment